হেসেখেলেই বাংলাদেশ দলকে পরাস্ত্র করলো রশিদ খানের দল,লজ্জা টাইগারদের

0
252

টাইগাররা ক্রিকেটে এখন অনেক এগিয়ে এসেছে। তবে এবার যেন,সব আশা ভেঙ্গে বুকের ভিতর এক বোরো ক্ষত তৈরী করেছে। কিছুদিন আগে টেস্ট খেলে, হেরে তার ক্ষত শুকাতে না শুকাতে শুরু হলো আরেক লজ্জার ক্ষত। 

ঢাকার মিরপুরে আফগানিস্তানদের সাথে হেরে ক্রিকেট খেলায় হেরে লজ্জায় ডুবলো বাংলাদেশের টাইগাররা। এ যেন প্রথম দেখায় কুপোকাত হলো বাংলাদেশ দল। আফগানদের সাথে প্রথম দেখায় এ হারের লজ্জা সত্যিই খুবই ক্রিকেট প্রেমীদের হৃদয়ে আঘাত লাগার মতো। যেন খুব সহজে বাংলাদেশ দল টাইগারদের হাসি মুখে হেসেখেলে উড়িয়ে দেবার মতো। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম দেখাতেই আফগানদের কাছে এ হার ক্রিকেট বাংলাদেশী ভক্তদের কাছে তা অতি লজ্জার। 

আফগানদের সাথে বাংলাদেশ দলের খেলায় বাংলাদেশ মাত্র পঁচিশ রানে হেরেছে। ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দলকে জিততে প্রয়োজন ছিল একশত পঁয়ষট্টি রানের। একশত পঁয়ষট্টি রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চমক দেখালেন। জুটি বেঁধে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের সঙ্গে মুশফিকুর রহীম সমান তালে ব্যাট করলেন। ব্যাট করার এক পর্যায়ে বেশি দূর স্কোর নিয়ে যাওয়ার আগেই সাঝঘরে ফিরলেন মুশফিকুর। 

এরপর শুরু হলো যত বাজে খেলার তকমা দ্বিতীয় বলেই লিটন ক্যাচ উঠিয়ে দিলেন। তাও আবার শূন্য রান করে মাঠ ছাড়তে হলো। মুশফিকও পারলেন না টিকে থাকতে হয়তো প্রথম দিকে নামার কারণে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন নি আর তাই তাকেও মাঠ ছাড়তে হলো। একদম বোল্ড হয়ে যান মাত্র তিন বলে পাঁচ রান করে।

সাকিব আল হাসানেরও সেই একই অবস্থা। দলের চাপ কাটানোর চেষ্টা করলেও বেশিক্ষন টিকে থাকতে পারলেন না। অন্যদের মতো থেকেও মাঠে বেশিক্ষন থাকতে হয় নি তবে তেরো বলে পনেরো রান করে সাকিব আল হাসান। সাকিবের আউট হওয়ার পর এই ওভারেই ফিরে যেতে হয় সৌম্য সরকারকে। তিনি এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর দোল পরে যাই বিপদে,চার উইকেট শেষ অন্যদিকে রান সংগ্রহ মাত্র বত্ৰিশ। সেখান থেকে ফিরাতে মাঠে জুটি বাঁধেন রিয়াদ ও সাব্বির। বেশিক্ষণ মাঠে টিকে থাকতে না পারলেও পঞ্চাশ বলে আটান্ন করার পর গুলবাদিন নাইব-এর কাছে জুটি ভাঙতে হয়। 

সবাই যখন একে একে মাঠ ছাড়ছে আর তখনই চোদ্দতম ওভারে মাহমুদউল্লাহর ভুলে তাকেও হারতে হয় বলারের কাছে , বোলারের বল বুঝতে না পেরে ক্যাচ উঠিয়ে দিলেন বাউন্ডারিতে। আর সেখানে ছিলেন নাজিব তারাকাই, সুন্দর করে বলটি  ক্যাচ করলেন। চৌচল্লিশ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। পরের ওভারে সাতাশ বলে চব্বিশ রান করে সতীর্থদের দেখানো পথে হাঁটেন সাব্বিরও, আউট হয়ে যান।

ধীরে ধীরে সবার মাঠ ছেড়ে যাওয়ায় খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।  ফসকে যাওয়া ম্যাচে পরের ব্যাটসম্যানরা তেমন কোনো কেরামতি দেখতে না পারলেও আগের খেলায় ম্যাচ জেতানো নায়ক আফিফ চৌদ্দ বলে দুই বাউন্ডারিতে রান করেন ষোলো।

এরপর দশ বলে বারো রান আসে মোসাদ্দেক হোসেনের কাছ থেকে। অন্যদিকে খেলার শেষ মাথায় মোস্তাফিজুর রহমান নিজের মতো করে খেলেন। অনেকটা চোখ বুজে ঝড়ো খেলা আরকি। সাত বলে পনেরো করেন মোস্তাফিজুর। বাংলাদেশ দল দুই বল থাকতেই রান করেন একশত ঊনচল্লিশ।

আফগানিস্তান ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই যেন বিপদে পড়ার মতো হয়ে যাই। তবুও থেমে না থেকে ব্যাট করতে থাকেন। সাকিবের বলে মারতে গিয়ে আউটের শিকার হন জাজাই। ক্যাচ ধরে আউটের আনন্দ নেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা।  

এরপর সাইফুদ্দীনের বলে আবারও আফগান এক ক্রিকেটার সাজঘরে ফেরেন। তিন বলে এগারো রান করে সাব্বিরের কাটছে আউট হন নাজিব। 

এক,দুই এরপর তৃতীয় উইকেটের সময় জুটি গড়েন আফগান দুজন ক্রিকেটার। তাদের জুটি ভাঙতে সময় লাগলেও শেষ মেশ সাকিবের কাছে পরাজিত হন। তাদের সতেরো বলে একুশ রানের জুটিটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। 

তবে আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের টাইগারদের অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে নবী-আফগানের এই জুটিটি ভাঙতে। বাষট্টি বলে আটাত্তর রান যোগ করেন তারা। যখন কোনো বলার তাদের জুটিটি কোনো ভাবে দমাতে পারছে না তখন সেই আগের মতো সাকিবের বলেই তাদের খেলা শেষ করতে হয়। সাইফুদ্দীনের হাতে বল তুলে দেন সাকিব আল হাসান। 

এরপর আসেন অলরাউন্ডার নবী,দুর্দান্ত ম্যাচ খেলে জিতিয়ে দেন আফগানদের। নবী একচল্লিশ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। পরে আরো দুর্দান্ত ভাবে ব্যাটিং করে চুয়ান্ন বলে চুরাশি রান করে দোল জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। নবী মোট সাতটি ছক্কা হাঁকান। 

বাংলাদেশ দলের মধ্যে সবচেয়ে সফল ভাবে খেলেছেন সাইফুদ্দীন।