মামুনুলকে গ্রেপ্তার নিয়ে হেফাজত নেতা বাবুনগরী চুপ!

মামুনুলকে গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে আলোচিত- সমালোচিত নেতা মামুনুল হক গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিএনপি হেফাজত নেতাদের মুক্তি চাইলেও এখন পর্যন্ত হেফাজত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেয়নি কোনো কর্মসূচি। আর আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর ভিডিও বার্তা দেয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা দেননি। হেফাজতের কোনো নেতাকে এখন টেলিফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। খবর ডয়চে লেভের।

মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের পর রবিবার রাতে হাটহাজারীতে বৈঠক হলেও সেই বৈঠকে কী হয়েছে তাও কেউ বলছেন না। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী মনে এই সব বিষয় নিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন। মাহাসচিব হওয়ার পরও ঢাকায় অবস্থান করার কারণ দেখিয়ে তিনি ওই বৈঠকের ব্যাপারের কিছু জানে না বলে এড়িয়ে যান। আর কোনো প্রতিক্রিয়া বা কর্মসূটি নেই কেন জানতে চাইলে রীতিমত রেগে যান তিনি।

মহাসচিবের এই অবস্থানের সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যারা নজরদারীতে আছেন তারা এখন আর কথা বলছেন না। এর বাইরে যারা আছেন তারা আপতত নিরাপদ থাকতে চাইছেন। এখন সবাই নিজেকে বাঁচাতে ব্যস্ত।

একজন নেতা বলেন, পরিস্থিতি উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে। অনেকেই এখন ভীত হয়ে পড়েছেন। তারা এখন অনেকটা হতভম্ব। তার দাবি, কেউ কেউ নিজেদের রক্ষায় সুরও পাল্টে ফেলেছেন।

এপর্যন্ত হেফাজতের প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। এরমধ্যে মামুনুল হকসহ ছয়-সাতজন প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন। কিন্তু মামুনুল হককে গ্রেপ্তারই ছিলো পুলিশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মামুনুল হকের মোম্মদপুরেরর জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা ঢাকায় হেফাজতের সবচেয়ে বড় আস্তানা। আশপাশে আারো ৭০-৮০টি কওমী মাদ্রাসা আছে। কিন্তু মামুনুলকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করতে কোনো বাধার মুখেই পড়তে হয়নি পুলিশকে। অথচ এই মামুনুলকে নারায়ণগঞ্জের রিসোর্ট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল হেফাজতের লোকজন।

ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপ কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন,” মামুনুল আগেই তার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে। ফলে তার জন্য হেফাজতের তেমন আগ্রহ ছিল না। আর গ্রেপ্তারের পর কর্মসূচি কে দেবে? কর্মসূচি মামুনুলই দিতো। সেই যখন আটক তাহলে আর কী হবে।”

হেফাজতের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে দীর্ঘ পরিকল্পনা করা হয়। মোদীর ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে ২৬ ও ২৭ মার্চ হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা ও নারায়াণগঞ্জে যে নাশকতা হয়েছে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে মামুনুলের রিসোর্ট কান্ড সুবিধা করে দেয়। তারপর করোনা বেড়ে যাওয়া ও লকডাউনে কওমী মাদ্রাসাগুলোও খালি করা হয়। আর মামুনুলকে নিয়েও হেফাজতের নেতারাও দুই ভাগ হয়ে যান।

হারুন অর রশীদ জানান, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। নাশকতার সাথে যাদের যোগ আছে তাদের সবাইকে ধরা হবে। নতুন করে নাশকতার চেষ্টা করলেও তাদের ধরা হবে।”

একাধিক সূত্র জানায়, আরো ২০-২৫ জনের মত হেফাজত নেতা এখন নজরদারিতে আছেন। হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীও তার মধ্যে রয়েছেন। আর তাদের ধরতে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের মামলা, হেফাজতের সাবেক আমির মাওলানা আহমদ শফী হত্যা মামলা এবং সাম্প্রতিক সময়ের মামলাগুলো কাজে লাগানো হচ্ছে।

উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় বাবুনগরীকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। তিনি বলেন,” বাবুনগরীর নিজের ও অন্যদের মিলিয়ে ৫০টিরও বেশি জবানবন্দি আছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানন্দিও আছে। ”

জানা গেছে, সারা দেশে এখন হেফাজতের নেতাকর্মীদের নিয়ে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক খুবই তৎপর। তাই অনেক নেতা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। সরকার চাইছে তারা যেন আর পায়ের নিচে মাটি না পায়। হেফাজতের বিকল্প নেতৃত্ব নিয়েও চিন্তা চলছে।

এদিকে মামুনুলকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। আর এটা নিয়েও হেফাজত আতঙ্কে আছে।

এখানে কমেন্ট করুন