নাগরিকত্বসহ তিনটি দাবি পূরণ হলেই নিজের দেশে ফিরে যেতে রাজি রোহিঙ্গারা

মানবিকতা থেকেই আশ্রয় দেয়া হয়েছিল মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের। কিন্তু আশ্রয় দিলেও দিন কে দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা। তাদের নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার অনেক ব্যবস্থা করা হলেও তারা সেখানে যেতে ইচ্ছুক নয় এমনটাও জানা গেছে। সম্প্রতি, মিয়ানমারের নাগরিকত্ব, বসতভিটা ফেরত ও চলাফেরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে রাখাইনে ফিরে না যাওয়ার কথা চীনা প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গারা এদেশে আসার পর থেকে শুরু হয়েছে এক নতুন সমস্যা। তাদের থাকার জন্য রাখা হয়েছে যে জায়গায় সেইখানে প্রচুর গাছপালা প্রতিনিয়ত কোননা কোনো কারণে বিনষ্ট হচ্ছে। আমাদের পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বন উজাড় হচ্ছে। পশু পাখি এক জায়গা হতে আরেক জায়গায় চলে যাচ্ছে। নিরাপদ পরিবেশ না পেয়ে মারা যাচ্ছে।

কিন্তু রোহিঙ্গারা এখন বাংলাদেশ থেকে যেতে চাচ্ছে না। অনেকেই বলছে এতো সুন্দর সুযোগ সুবিধা বাংলাদেশে তারা পেলে কখনো এদেশ ছেড়ে তারা যাবে না। তবে বাংলাদেশ ছেড়ে তাদের যেতে হবে কারণ তারা এখন বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের জন্য বাংলাদেশের মানুষের নানা ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

রোহিঙ্গারা নানা ধরণের অপরাধে জড়িয়ে বাংলাদেশের মানুষের নানা ধরণের ক্ষতি করছে। অন্যায় ভাবে অর্থ উপার্জন করছে। মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে এমন কাজে অংশগ্রহণ করছে।  

সবশেষে রোহিঙ্গারা বলছে তাদের তিনটি দাবি পূরণ হলেই তারা এ দেশ ছেড়ে যাবেন :

রোহিঙ্গারা বলছে তারা তখনই এই দেশ ছেড়ে নিজের দেশে যাবেন যখন তাদের ওই দেশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু ফিরিয়ে দিবেন। তারা যাতে ঐখানে নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস শুরু করতে পারে,কোনো ধরণের হয়রানি আর যাতে করতে না পারে তার জন্য নাগরিকত্ব দিতে হবে। তাদের ফসলি জমি ফিরিয়ে দিতে হবে। 

রোহিঙ্গাদের এই শর্ত যদি পূরণ হয় তাহলেই তারা নিজ দেশে ফেরত যাবেন। আরো বলেন যদি আমাদের তরফ থেকে কেউ একজন সেখানে গিয়ে দেখার সুযোগ পাই যে,সে দেশ তাদের জন্য কতটা নিরাপদ তাহলে তারা ফায়ার যাবেন।রোহিঙ্গারা ভয়ে থাকেন সেখানে যাওয়ার পর যদি তাদের ওপর আবার নির্যাতন হয় 

রোহিঙ্গারা আসলে নিশ্চিত হতে চাই ,সেখানে গিয়ে তারা পরিবার নিয়ে আবার মিলেমিশে থাকতে পারবে কিনা।যদি তারা সব কিছুতে নিশ্চিত হতে পারে যে, তারা পরিবার নিয়ে থাকতে পারবে তাহলে তারা পরিবার নিয়ে সেইখানে যেতে রাজি আছেন।আর তা না হলে তারা রাজি নন। 

তবে বাংলাদেশের মানুষ মনে করছে রোহিঙ্গারা এত সুযোগ সুবিধা পাওয়ায় তারা এখন এই দেশ ছেড়ে যেতে চাচ্ছে না। তাদের কোনো কাজ কর্মের প্রয়োজন হচ্ছে না তারা বিনা পরিশ্রমে খেতে পারছে। 

অন্য দিকে বিভিন্ন দেশি বিদেশি সংস্থা রোহিঙ্গাদের ভুল পথে পরিচালিত করছে।ফলে তাদের আশে পাশে বাংলাদেশের যেসব মানুষ রয়েছে তারা তাদের কাছে হয়রানির শিকার হচ্ছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে কিছু সংস্থা এর জন্য দায়ী। 

বিভিন্ন সংস্থা তাদের উপকারের কথা বলে বাংলাদেশ নিয়ে নানা উল্টা পাল্টা কথা বলে বিষিয়ে দিচ্ছে। তারা বড় বড় সমাবেশ করে, এই সমাবেশে তাদের পোশাক পরিবর্তন হয়। অনেকের প্রশ্ন এত পোশাকের টাকা পয়সা কে দিলো।কিংবা এই সমাবেশ বা কিসের জন্য। 

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ নিয়ে বলছে বাংলাদেশ সরকার তাদের নাকি এমনি এমনি খেতে বা থাকতে দেয় না। বরং বাংলাদেশ সরকার তাদের থাকতে বা খেতে দেওয়ার জন্য বিদেশ থেকে সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছে। 

বিদেশ হতে বিভিন্ন সংস্থা এসে রোহিঙ্গাদের এলাকা প্রদর্শন করেন। মাঝে মাঝে খাবার,স্কুল ব্যাগ ইত্যাদি দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করেন। 

দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত গড়ে অনেক শিশু জন্ম হচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা বাড়ছে। যা বাংলাদেশের অনেক চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ,দ্রুত রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে পাঠাতে না পারলে একসময় তা বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।