ছাত্রলীগের পদ বদল, নতুন নেতৃত্বদের সুনামের ধারা ধরে রাখতে হতে হবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

0
269

ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা যখন তাদের কর্মকান্ড দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারিনি কিংবা যখন তাদের নিয়ে মানুষের মাঝে নানান কথার ছড়াছড়ি আর তখনই তাদের স্থলে নতুন দায়িত্ব পেলো আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য।

কিন্তু এ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এখন তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগের পুরানো সুনাম ফিরিয়ে আনা। কারণ আগের কমিটির প্রধান দুজনের নামে রয়েছে নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড। ফলে রাজনৈতিক সমাজে তাদের নিয়ে বিভিন্ন দুর্নামের আলোচনা সমালোচনা।এমনকি ছাত্রলীগের এমন অনেক সদস্য রয়েছে যারা ইতিমধ্যে এই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন।

একে একে তাদের দুজনের বিরুদ্ধে নানান কথা ও তার সব অনিয়মের প্রমান পাওয়ায় নিজেদের পদ হারাতে হলো। পদ হারানোর আগে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে চাইলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা কোনো সুযোগ পাননি।কারণ,তারা সেই বিশ্বাসের জায়গা শেষ করে ফেলেছে।

আর তাই রাব্বানী ও শোভনের জায়গায় নতুন পদে যুক্ত হওয়া ছাত্রলীগের নতুন সদস্যদের এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সুন্দর নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে পুরানো সুনাম ফিরিয়ে আনা।

পুরানো নেতাদের ভুল বোঝা-বুঝি / বিতর্কিত সকল অনিয়মের তকমা ঘুচিয়ে নতুন ভাবে ছাত্রলীগের আগের সুনামের জায়গায় ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নতুন নেতৃত্বের ওপর। ফলে ছাত্রলীগ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্যক্তিবর্গের মাঝে প্রশ্ন রয়েছে, পারবে কি এই নতুন নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বিতর্কিত রেকর্ড ভাঙতে আবার আগের সুনামে ফিরে আসতে।

ইতোমধ্যে ছাত্রলীগকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সকল কর্মকান্ডের উপর ভিত্তি করে কঠোর হুঁশিয়ার বার্তা দিয়েছেন। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর গণভবনে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল দেখা করতে গেলে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা ছাত্রলীগ আছো তোমরা এমন কেউ এমন কোনো কাজের সাথে কখনো ভুলেও যুক্ত হবে না, যা মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা নষ্ট করে। মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাসকে তোমাদের প্রত্যেকের মূল্য দিয়ে এক সাথে কাজ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

শেখ হাসিনা প্রধান বলেন, আমি তোমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছি আস্থা ও বিশ্বাস থেকেই । আর যদি তোমরা আমাদের সে বিশ্বাস ও আস্থা অক্ষুন্ন করো কিংবা ধরে রাখতে না পারো তাহলে তোমাদের মতো এমন কাউকে ছাত্রলীগের মতো একটা জায়গায় প্রয়োজন নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে।

কিন্তু দায়িত্বে থাকা শোভন-রাব্বানী দায়িত্ব পাওয়ার পরই নিজেদের মতো করে যা নয় তা ক্ষমতা দেখানো শুরু করেন। ফলে যার যা প্রাপ্য সম্মান অর্থাৎ দেখা যাই অনেক সিনিয়র নেতাদের দেখেও না দেখার ভান করেন থাকেন যা মেনে নেওয়া যাই না। । এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও ওঠে।

কিন্তু দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা তাদের একাধিকবার নানা ভাবে সতর্ক করলেও তারা তা কখনো আমলে নেয়নি। আর তাই বেলাশেষে তাদেরও শেষ রক্ষা হলো না। তাদের এই কারণে তাদের পদ থেকে অতি দ্রুত অপসারণ করা হয়েছে। আর তাদের জায়গায় নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জয় ও লেখক ভট্টাচার্যকে। এখন তাদের দুজনের প্রথম দায়িত্বই হচ্ছে শেখ হাসিনার আস্থা অর্জন ভালো কাজের মধ্যে দিয়ে।আর আস্থা অর্জন করতে হলে ছাত্রলীগের যে জায়গাটাই প্রশ উঠেছে সেই জায়গাটা থেকে বেরিয়ে এসে সামনের দিকে এগিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে। ফলে বিতর্কিত জায়গা থেকে পরিত্ৰান পাবার চাপ নিতে হচ্ছে।

সেই সাথে দ্বিতীয়ত, যারা পরিশ্রমী ও ত্যাগী নেতা কর্মী আছে তাদের সম্মানের সাথে মূল্যায়ন করতে হবে। অন্যদিকে যেসব বিতর্কিত কর্মী রয়েছে তাদের বাদ দিতে হবে। সেই সাথে,আগামী এগারো মাসের মধ্যে সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ সব জেলা-উপজেলা কমিটির সম্মেলন করে সংগঠনকে গতিশীল করতে হবে।

এই এগারো মাসে যদি নতুন দুজন সফল হয়ে সামনের দিকে যেতে পারে তাহলে সামনের সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত থেকে ভারমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ওপর মহল থেকে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগের হারানো ঐতিহ্য ও সুনাম ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা স্পষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

নতুন দায়িত্ব পাওয়া দুজন বলেন,জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী ছাত্রলীগকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবো।পুরানো সকল কমিটি ভেঙে নতুন করে কমিটি তৈরী করবো।সংগঠনকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে আসবো। যতই বাঁধা আসুক,সব বাঁধা পেরিয়ে সামনে এগুবো।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী সকল অনিয়ম হতে দূরে থাকতে সকলকে সতর্ক করেন।
অনেক রাজনীতিবিদ,বিশ্লেষক আছেন যারা,প্রধানমন্ত্রীর এ কাজকে স্বাগত জানিয়েছেন। ছাত্রলীগের পদ থেকে দুই নেতা অপসারণের এ কাজকে অনেকে নজিরবিহীন বলছেন।

অনেকে শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন,তিনি অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রমান করেছেন তিনি অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন না। যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তাদেরও স্বাগত জানাই।